সহজ প্রসবের জন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা♦:
যদি আপনার বড়সড় কোন জটিলতা না থাকে তবে গর্ভাবস্থায় কিছু নিয়মকানুন মেনে ও নিরাপদ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহন করে স্বাভাবিক ডেলিভারির চেষ্টা করতে পারেন৷
যেমনঃ
১. প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে।
২. ১ম পর্যায়ে পরপর বারবার খেতে হবে।
৩. আমাদের দেশীয় শাকসবজি, ফলমূল বেশী পরিমানে খেতে হবে। কারন — কোষ্ঠ পরিস্কার রাখার জন্য, যেন কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়।
৪. নিয়মিত সকাল - বিকাল হাটা - চলা করতে হবে।
৫. দুপুরে খাবার পর বিশ্রাম নিতে হবে কিন্তু ঘুমানো যাবে না।
৬. সুতি কাপড় ঢিলা করে বা লুজ করে পরতে হবে।
৭. দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে হবে।
৮. ১ম ৬ সপ্তাহ এবং শেষের ৬ সপ্তাহ মেলামেশা থেকে দূরে থাকতে হবে।
৯. মানসিক চাপ মুক্ত থাকতে হবে। নরমাল ডেলিভারির জন্য শরীর ও মন উভয়ই সুস্থ রাখা প্রয়োজন।স্ট্রেস বা মানসিক চাপ বাড়লেই শরীর খারাপ হবে।নিজেকে সব সময় খুশি রাখতে হবে।
১০. প্রতি ১ মাস পর পর ওজন নিতে হবে। রক্তের চাপ, প্রেসার, পালস রেট, প্রস্রাব পরীক্ষা করতে হবে।
১১. নরমাল ডেলিভারির জন্য অত্যন্ত উপকারী যোগব্যায়াম।এতে শরীরের পেশি শিথিল থাকবে, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমনকি স্ট্রেস কমবে। ডেলিভারির যন্ত্রণা কম করতে তাই নিয়মিত যোগব্যায়াম করতে হবে।
? লক্ষণভেদে নিচের সঠিক ঔষধটি নির্বাচন করে প্রয়োগ করতে পারলে সিজারের প্রয়োজন হবে না।
? পালসেটিলা: শান্ত স্বভাব কোমল মণ,অভিমানী,গরম কাতর ,খোলা বাতাস পছন্দনীয় স্ত্রীলোকদের অনিয়মিত প্রসব বেদনা। বেদনা কখনও কম কখনও বেশী।আবার কখনও একেবারেই থাকে না।জরায়ুর মুখ আংশিক খুলিয়াছে।কিন্তু বেদনার জোর কম থাকায় প্রসবে বিলম্ব হলে ৩০/২০০শক্তির কয়েক মাত্রা ঘনঘন খাওয়ালে সহজেই প্রসব বেদনা বৃদ্ধি হয়ে নরমাল ডেলিভারি হয় কোন অপারেশনের প্রয়োজন হয় না।
? সিমিসিফিউকা: জরায়ুর মুখ শক্ত,কোমর ও তলপেট বেদনা,রোগিনী ভয়ে কাপতে থাকে।বেদনা য় মুর্ছার ভাব হয় ও প্রসবে বিলম্ব হলে ১,৩ এক্স শক্তির ঔষধ আধ ঘন্টা পরপর কয়েক মাত্রা প্রয়োগেই সহজে প্রসব হবে।
? জেলসিমিয়ম: জরায়ুর মুখ অত্যন্ত শক্ত।অনেক্ষণ যাবৎ প্রসব বেদনা সত্বেও জরায়ুর মুখ না খুললে ।প্রসবে বিলম্ব হলে ১এক্স শক্তির ৪/৫ ফোটা অর্ধ ঘন্টা পর পর পানিতে মিশিয়ে খাইতে দিলে সহজেই প্রসব হবে।
? বেলেডোনা: রোগিনীর চোখ মুখ লাল,মাথা বেদনা প্রচন্ড প্রসব বেদনা এক বার হঠাৎ বাড়ে ও একবার কমে তার জন্য ৩এক্স শক্তির ্ঔষধ ১৫/২০ মিনিট পরপর কয়েক মাত্রা প্রয়োগেই সহজ প্রসব হয়।
? কলোফাইলম: প্রসুতির স্থান পরিবর্তনশীল বেদনা, বেদনায় ক্লান্ত,বেদনা আসে ও চলিয়া যায়,জরায়ুর মুখ খুলিতে বিলম্ব হলে কলোফাইললম১এক্স শক্তির ৪/৫ ফোটাসামান্য জলসহ আধা ঘন্ট পরপর দিলে সহজেই প্রসব হয়।
? কফিয়া ক্রুডা: ক্রুদ্ধ স্বভাবের রমনীর প্রসব বেদনার সাথে মাথা বেদনা,রোগিনী ছটফট করলে এবং চিৎকার করে তাকে ৩০/২০০শক্তির ঔষধ ৩০ মিনিট পর পর দিলে সহজ প্রসব হয়।
? ইপিকাক: প্রসব বেদনা সাথে গা বমি বমি ভাব,বমি হলেও বমি ভাব কমে না তবে ইপিকাক ৩০/২০০শক্তির আধা ঘন্টা পর পর দিলে সহজ প্রসব হবে।
? ক্যামোমিলা: অত্যন্ত বদ মেজাজ,ভীষণ মেজাজী প্রসব বেদনা সকলকে গালাগালি করলে সেই প্রসুতির জন্য ৬,৩০শক্তির কয়েক মাত্রা আধা ঘন্টা পর পর দিলে সহজ প্রসব হবে।
? ক্যালি কার্ব: কোমরে প্রচন্ড বেদনা ,বেদনায় রোগিনী কোমড় গেল কোমড় গেল বলে চিৎকার করিতে থাকে তবে ক্যালি কার্ব ২০০শক্তির ৩০ মিনিট পরপর দিলে এক ঘন্টার মধ্যেই প্রসব হয়। এছাড়াও আরো অসংখ্য ঔষধ লক্ষন অনুসারে ব্যবহার করা হয়........
[ বি: দ্র: হোমিওপ্যাথি একটি লক্ষন ভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি। তাই একজন রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথ চিকিৎসকের পরার্মশ নিয়ে ঔষধ খাবেন, নিজে নিজেই ডাক্তারি করবেন না,কারণ রোগীর রোগের লক্ষন মিলতে হবে,অন্যথায় উপকার পাওয়া যাবে না। এছাড়াও যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের গ্রুপে জানাতে পারেন। গ্রুপ মেম্বাররা সাহায্য করার চেষ্টা করবে। ]