আপনি কি ❝সিমেন এবং স্পার্ম❞ এই দুইটি বিষয় নিয়ে ভাবছেন আর প্রতিবারই অবাক হচ্ছেন~ এটা ভেবে যে কিভাবে একটি আরেকটি থেকে আলাদা? তাহলে চলুন আপনার প্রশ্নগুলো'র উত্তর দেওয়া যাক!
.
▪︎সিমেন(বীর্য) ও স্পার্ম(শুক্রাণু) কি সত্যিই এক রকম নয়?
~ না! ❝সিমেন এবং স্পার্ম❞ এদের মধ্যকার সম্পর্ক অনেকটা বর্গাকার এবং আয়তক্ষেত্রের মতো। শুক্রাণু বীর্যের একটি অংশ, কিন্তু বীর্য শুক্রাণু'র একটি অংশ নয়।
সিমেন বা বীর্য, এটি হচ্ছে সাদা রঙের তরল যা পুরুষাঙ্গ থেকে বেরিয়ে আসে। এটিকে বীর্যপাত বলা হয়ে থাকে।
স্পার্ম বা শুক্রাণু হচ্ছে পুরুষ প্রজনন কোষ এবং এটি শুধুমাত্র বীর্যের একটি উপাদান। নারীর সাথে সহবাসের পর যদি আপনি সন্তান গ্রহন করতে চান তবে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
.
▪︎সিমেন-এ কি আর কিছু আছে?
~ হ্যাঁ! সিমেন আসলে পরিপক্ক শুক্রাণু। প্রোস্টেট গ্রন্থি, সেমিনাল ভেসিকল এবং বালবোউরেথ্রাল গ্রন্থি থেকে প্রাপ্ত তরলগুলি'র সংমিশ্রণ। এটি শর্করা, প্রোটিন এবং কিছু ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ।
.
▪︎সিমেন এর মূল উদ্দেশ্য কি?
~ আপনি কি এটা কখনও ভেবে দেখেছেন যে স্পার্ম কোষগুলি ট্যাডপোল আকৃতির কেন হয় এবং এদের ❝সাঁতারু❞ কেন বলা হয়?
মূলত সিমেন বা বীর্য যদি স্পার্ম কোষগুলোকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য না করে তাহলে মাছের মতো চেহারা এবং পিছনে দিকে নড়বড়ে লেজ থাকা সত্ত্বেও শুক্রাণু কেবল বৃত্তের মতো সাঁতার কাটতে থাকবে। বীর্য মূলত টেলওয়াইন্ড যা শুক্রাণুকে বংশবৃদ্ধি'র উদ্দেশ্যে ডিম্বাণুতে যেতে সাহায্য করে।
.
▪︎সিমেন কোথায় তৈরি হয়?
~ সিমেন বা বীর্য পুরুষ দেহের বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়ে থাকে।
১। Testicles: টেস্টিস ~ পুরুষাঙ্গের নিচের বলগুলি, দুটি ছোট অঙ্গ যা অন্ডকোষের ভিতরে শুক্রাণু এবং টেস্টোস্টেরন তৈরি করে।
২। Epididymis: এই লম্বা টিউবটি প্রতিটি অণ্ডকোষের কাছে অবস্থিত এবং যা আপনার শুক্রাণু'কে ড্যাংলার থেকে ভ্যাস ডিফারেন্সে নিয়ে যায়।
৩। Vas Deferens: এই টিউবটি এপিডিডাইমিস এবং মূত্রনালীকে সংযুক্ত করে, সেই ছিদ্র যা দিয়ে প্রস্রাব এবং বীর্য শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। ভ্যাস ডিফারেন্স শুক্রাণু সঞ্চয় করে এবং অন্ডকোষ থেকে বের করে নিয়ে যায়।
৪। Seminal Vesicles: এই থলি সদৃশ গ্রন্থি মূত্রাশয়ের পিছনে অবস্থান করে এবং সেমিনাল তরল তৈরি করে যা বীর্যের অংশ গঠন করে।
৫। Prostate Gland: প্রোস্টেট গ্রন্থি মূত্রাশয়ের ঠিক নিচে, মূত্রনালী'কে ঘিরে রেখেছে। এটি সেই টিউব বা নল যার মাধ্যমে প্রস্রাব ও বীর্য পুরুষদের শরীর থেকে বেরিয়ে আসে। সেমিনাল ভেসিকেল ও প্রোস্টেট গ্রন্থি একত্রে এক ধরনের তরল পদার্থ তৈরি করে যা শুক্রাণু কোষের সাথে মিলিত হয়ে সিমেন বা বীর্য তৈরি করতে সাহায্য করে।
একবার বীর্য তৈরি হয়ে গেলে, বীর্যপাতের সময় এটি মূত্রনালী দিয়ে লিঙ্গের বাইরে চলে যায়।
.
▪︎আপনি কি শুক্রাণু দেখতে পারবেন?
~ হ্যাঁ, শুধুমাত্র যদি আপনি একটি মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে দেখার চেষ্টা করেন তবেই সম্ভব। শুক্রাণু ক্ষুদ্র। সত্যিই খুবই ছোট মত। একটি শুক্রাণুর গড় পরিমাপ মাত্র ৪.৩ মাইক্রোমিটার লম্বা এবং ২.৯ মাইক্রোমিটার চওড়া।
.
▪︎সাধারণত বীর্যপাতে কত শুক্রাণু ক্ষরণ হয়?
~ প্রতি বীর্যপাতে যদি ১৫ মিলিয়ন থেকে ২০০ মিলিয়ন মিলিলিটার শুক্রাণু থাকে তবেই এটি স্বাভাবিক শুক্রাণু গণনা হিসাবে বিবেচিত হয়। এছাড়া প্রজনন সিস্টেমের সমস্যা থেকে শুরু করে চিকিৎসার অবস্থা, জীবনযাত্রা, এমনকি একজন ব্যক্তি যে পরিবেশে জীবনযাপন করে এমন বেশকিছু পারিপার্শ্বিক বিষয় শুক্রাণুর সংখ্যাকে প্রভাবিত করতে পারে।
.
▪︎শুক্রাণু ঠিক কতক্ষণ জীবিত থাকে?
~ শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরে এটি কোথায় এবং কোন পরিবেশে অবস্থান করছে তার উপর নির্ভর করে। শুক্রাণু যদি যোনির উষ্ণতা এবং সুরক্ষায় থাকে তবে ৫ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে মূলত সার্ভিকাল মিউকাস দ্বারা প্রদত্ত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার কারণেই এটি সম্ভব হয়। যদি শুক্রাণু যোনি ব্যতীত অন্যত্র অবতরণ করে, এক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘক্ষণ বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ; সাধারণত মাত্র কয়েক মিনিট, বিশেষ করে যদি বাথরুমের মেঝে বা কম্পিউটার স্ক্রিনের মতো ঠান্ডা, শুষ্ক পৃষ্ঠে অবতরণ করে। গরম পানি শুক্রাণুকে আরও দ্রুত মেরে ফেলতে পারে।
.
পুরুষের শরীরে প্রতিনিয়ত শুক্রাণু উৎপাদন করতেই থাকে। শুক্রাণু কোষ থেকে ডিম্বাণু নিষিক্তকরণে সক্ষম পরিপক্ক শুক্রাণু গঠন করতে প্রায় ৭৪ দিন সময় লাগে। আর বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শুক্রাণুর গুণমান এবং গতিশীলতা হ্রাস পায়, বিশেষ করে ৫০ বছর বয়সের পরে।
.
উপরোক্ত বিষয়গুলো জানার পর আমরা সবাই সিমেন ও স্পার্ম এদের মধ্যকার পার্থক্য উপলব্ধি করতে পারি। কিন্তু তারপরেও এই দুইটি বিষয়কে অনেকে একই মনে করে গুলিয়ে ফেলি, কিন্তু কেন?
লক্ষ্য করে দেখুন, ❝Semen❞ & ❝Sperm❞ শব্দ দুটি ❝S❞ দিয়ে শুরু আবার দুটি শব্দেই মোট পাঁচটি অক্ষর রয়েছে; আবার বিষয় দুটি'র কাজও কিছুটা একই সেটা কি?
উত্তর হচ্ছেঃ নতুন প্রাণের সঞ্চার করা।